বাহাত্তরের সংবিধান একটি দলের আদর্শ: আলী রীয়াজ

বাহাত্তরের সংবিধান মূলত একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শের প্রতিফলন এবং এতে সাধারণ মানুষের মুক্তি আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্র সংস্কার: রাজনৈতিক ঐকমত্য ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, এ যে রাজনৈতিক দল তার আদর্শ, সেটা জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে এটি রাষ্ট্রের আদর্শ হিসেবে আর গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান চূড়ান্ত করছে সরকার। তবে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও অন্যান্য প্রস্তাবের বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী—
✅ জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করা
✅ সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৪০০ করা
✅ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বয়সসীমা ২১ বছর নির্ধারণ করা
✅ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও ক্ষমতা কমানো
এ সময় বক্তারা সংবিধান থেকে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ শব্দ বাদ দেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
গোলটেবিল বৈঠকে নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের কাজ দীর্ঘায়িত হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। জরুরি সংস্কার দ্রুত শেষ করে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, যৌক্তিক সংস্কার শেষ করে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। রাজনৈতিক দল ছাড়া দেশ চালানো সম্ভব নয়, তাই রাজনৈতিক দলগুলোকেই সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংস্কার প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়ন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবার দেশ/কেএম