১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কর্মসূচি পালন
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পথচারী নিহত

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে মো. জাবেদ নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ মার্চ) বারইয়ারহাট পৌর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির শাখা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এবং পরবর্তী সহিংসতার ফলে এ প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়।
নিহত মো. জাবেদ চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার বাংলাবাজারের নীলগিরি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। তিনি আরএফএল গ্রুপের এসআর (মার্কেটিং অফিসার) হিসেবে কাজ করতেন। নিহত জাবেদ স্থানীয়দের কাছে এক পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন, এবং তার মৃত্যু শহরজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।
সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮-১০ জনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে সুমন (৩৫), ফজলুল করিম (৪৩), শহিদুল ইসলাম (৫১), গোলাম মোর্শেদ (৪০) এবং রাশেদ (৫০)-এর মতো স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা রয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেয়া হয়েছে, তবে গুরুতর আহতদের চিকিৎসা জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা, মিরসরাই পৌরসভা শাখা এবং বারইয়ারহাট পৌরসভা শাখার বিএনপি কমিটি ঘোষণা নিয়ে গত দুই দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর জেরে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও, তা ভঙ্গ করে দুই পক্ষের কর্মসূচি পালিত হতে থাকে।
এ উত্তেজনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ বারইয়ারহাট পৌর বাজারে মুখোমুখি হয় এবং সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা অন্য গ্রুপের উপর হামলা চালালে, তার মধ্যে মো. জাবেদ নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হন। পরে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় বিএনপির দুই গ্রুপের নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাদের উপর প্রথমে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, আজ সকালে মাঈন উদ্দিন লিটনের বাড়ির সামনে আমাদের পথ অবরুদ্ধ করে হামলা ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর দুপুরে আমরা মিছিল নিয়ে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে প্রবেশ করলে, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, এবং পরবর্তীতে শান্তিরহাট রোডে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের সময় আবারো হামলার শিকার হন তারা।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন জানান, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিলো, কিন্তু তা ভঙ্গ করে বিএনপির একটি গ্রুপ কর্মসূচি পালন করতে মাঠে নামে। তিনি বলেন, এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজিয়া আফরিন বলেন, মো. জাবেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিলো, তার পেটে চুরিকাঘাত করা হয়েছিলো। এছাড়া ১০-১২ জন আহত হয়েছেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সবার দেশ/এমকেজে