চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ট্র্যাজেডি, আনন্দযাত্রায় মৃত্যু
মা-বাবা, দুই বোনের পর আইসিইউতেও হার মানলেন প্রেমা
একটি পরিবারের সবাই চলে গেলেন, ঈদের ছুটিই নিয়ে নিলো সব

কেউ ভাবেনি ঈদের ছুটি এমন হবে। পরিবারের সবাই মিলে যাচ্ছিলেন কক্সবাজারে, হাসিমুখে। কিন্তু সে পথেই থেমে গেলো জীবনের গতি।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে মারা গেছেন এ পরিবারের বড় মেয়ে প্রেমা ইসলাম (১৯)। এর আগেই না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তার মা-বাবা ও দুই ছোট বোন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রেমা। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ধীমান চৌধুরী জানান, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রেমার পরিবার থেকে আর কেউ বেঁচে রইলো না। এ ধরণের ঘটনা খুব কষ্টদায়ক।
একসঙ্গে গিয়েছিলেন সবাই
ঢাকার মিরপুরে থাকতেন রফিকুল ইসলাম শামীম ও লুৎফুন নাহার দম্পতি। তাদের তিন মেয়ে প্রেমা, আনিশা (১৪) ও লিয়ানা (৮)। ঈদের ছুটিতে স্বপ্ন ছিলো কক্সবাজারের সমুদ্র দেখা, একটু রিফ্রেশ হওয়া।
কিন্তু বুধবার সকালে সে পথেই ঘটে যায় বিপত্তি। একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে দুইটি হাইয়েস মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার, দুই মেয়ে আনিশা ও লিয়ানা এবং ভাগ্নি তানিফা ইয়াসমিন।
আমরা ভেবেছিলাম অন্তত প্রেমা ফিরবে
নিহতদের একজনের আত্মীয় রবিউল হাসান বলেন, দুলাভাই, বোন আর ভাগ্নিরা মারা যাওয়ার পর আমরা শুধু চেয়েছিলাম প্রেমা বাঁচুক। কিন্তু সেও চলে গেলো। আমাদের পুরো পরিবারটাই হারিয়ে গেলো। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।
সব শেষ হয়ে গেলো একসঙ্গে
রফিকুল ইসলাম কাজ করতেন একটি গার্মেন্টসে, স্ত্রী গৃহিণী। প্রেমা সদ্য কলেজ শেষ করেছে, আনিশা ছিলো স্কুলছাত্রী, লিয়ানা এখনো ভর্তি হয়নি। একসঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সবই শেষ হয়ে গেলো।
প্রেমা কয়েকদিন ধরে আইসিইউতে লড়াই করছিলো। অনেকেই দোয়া করছিলেন, ও যেন ফিরেই আসে। কিন্তু অবশেষে শুক্রবার সকালেই চলে গেলো সে।
বুধবার সকালে রিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে দুইটি হাইয়েস মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৭ জন ও হাসপাতালে ৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অন্তত ৬ জন। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িগুলো দেখে বোঝা যায়, কী ভয়ানক ছিলো সংঘর্ষটা। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায় একটি গাড়ি।
ঈদের ছুটি ছিলো একটু আনন্দ পাওয়ার সুযোগ। কিন্তু এক পরিবার হারালো সবকিছু। মা, বাবা, সন্তান—সব।
এ মৃত্যুর মিছিল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, শুধু ঘর নয়, সড়কেও নিরাপত্তা দরকার।
সবার দেশ/কেএম