শরীয়তপুরে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দূর্বাডাঙ্গা এলাকায় শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। বেলা ১২টা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবর আওয়ামী লীগের এ দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উভয় পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকালে দূর্বাডাঙ্গা গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ থেকে ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা ব্যবহার করা হয়। ঘটনার একপর্যায়ে একাধিক বালতি থেকে হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়, যা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং চারপাশে ধোঁয়ার সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, অনেকের হাতে বালতি ও মাথায় হেলমেট। একপক্ষ বালতি থেকে ধারাবাহিকভাবে বোমা নিক্ষেপ করছে।
এ বিষয়ে বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিলো। আমি বিষয়টি বারবার থানায় জানিয়েছি। আজকের ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি সলাউদ্দিন মাস্টার ও জলিল মাদবর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ।
জলিল মাদবর ও সলাউদ্দিন মাস্টারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল আখন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আধিপত্য নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম