সমকামিতায় দুই যুবক, প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত

ইন্দোনেশিয়ায় শরীয়া আইন অনুযায়ী সমকামিতায় লিপ্ত থাকা দুই ব্যক্তিকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেঢব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে সবার সামনে এ শাস্তি কার্যকর করা হয়।
কঠোরভাবে শরীয়া আইনে পরিচালিত একটি আদালত তাদেরকে সমকামিতায় লিপ্ত থাকায় দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে একজনকে ৮২ ঘা এবং অন্যজনকে ৭৭ ঘা বেত্রাঘাত করা হয়। সূত্র: অনলাইন ডেইলি মেইল।
খবরে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার কোথাও সমকামিতা অবৈধ নয়। তবে রক্ষণশীল আচেহ প্রদেশে তা অবৈধ। ঘটনাটি ঘটে সেখানেই। ওই প্রদেশে কঠোরভাবে শরীয়া আইন অনুসরণ করা হয়। অভিযুক্ত দুই যুবককে প্রাদেশিক রাজধানী বান্দা আচেহ’তে একটি পার্কে দুপুরের সামান্য আগে বেত্রাঘাত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কয়েক ডজন মানুষের সামনে ওই দুই যুবককে বেতের লাঠি দিয়ে প্রহার করা হয়। তাদের বেত্রাঘাত তিনটি কমিয়ে তার পরিবর্তে তিন মাসের জেল দেয়া হয়।
এর আগে নভেম্বরে স্থানীয়রা বান্দা আচেহ’তে একটি ভাড়া করা রুম তল্লাশি করে। সেখানে তারা ওই দুই যুবককে দেখতে পায়। তারা দু’জনেই স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তারা সেখানে একসঙ্গে বসবাস করেন। যৌন সম্পর্কের অভিযোগে তাদেরকে শরীয়া বিষয়ক পুলিশের কাছে নিয়ে যান তারা। তবে এর সমালোচনা করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইন্দোনেশিয়ার গবেষক আঁন্দ্রে হারসোনো।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক উপপরিচালক মন্তসে ফেরের বলেছেন, উভয়ের সম্মতিতে যৌন সম্পর্ককে কখনোই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। এর জন্য কাউকে শাস্তি দেয়াও উচিত নয়।
প্রসিকিউটররা বলেছেন, অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার একই পার্কে অন্য দু’ব্যক্তিকে যথাক্রমে ৩৪ ও আট ঘা করে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। আচেহ প্রদেশে বেত দিয়ে শাস্তি দেয়া একটি সাধারণ রীতিতে পরিণত হয়েছে। জুয়া থেকে শুরু করে মদ পান, ব্যাভিচারিতার শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করা হয় সেখানে। এ প্রদেশটি ২০০১ সালে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন পায়।
সবার দেশ/কেএম