Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৫, ২৭ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ০১:০৬, ২৭ মার্চ ২০২৫

‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভারত বিশ্বে প্রথম, ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার দল বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে। এ সব কর্মকাণ্ড দেশের ধর্মীয় সহনশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হুমকি।

সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভারত বিশ্বে প্রথম, ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (USCIRF) সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতকে ২০২৪ সালের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনকারী ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া, প্রাক্তন ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদব এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় ২৫ মার্চ, ২০২৫ তারিখে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত ছিলো। বিশেষত, ভারতের মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমিশনটি জানায় যে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের ধর্মীয় সহনশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সদস্য যারা ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, তারা নানা ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে কনস্যুলার পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা, ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড বাতিল, সহিংসতার হুমকি এবং নজরদারি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের সাথে সাথে গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবকে ‘ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের’ জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপের সৃষ্টি করছে। তবে ভারত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে তাদের পদক্ষেপ যথার্থ ছিলো।

প্রতিবেদনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কিছু বিতর্কিত মন্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মোদি মুসলিমদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তাদের ‘বেশি সন্তান’ রয়েছে। এর ফলে দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং ঘৃণার পরিবেশ আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কমিশনের ওপর তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়স্বাল বলেছেন, মার্কিন কমিশনটি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ প্রতিবেদন তৈরি করছে। তিনি বলেন, ভারত একটি বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং সহনশীলতার প্রতীক, এবং এ ধরনের প্রতিবেদন তার অবস্থানকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রতিবেদনটি শুধু ভারতীয় সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে এমন নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে। ভারতের সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ গত বছর শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিলো।

USCIRF- এর প্রতিবেদনটি ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেদন। এটির ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ওপর এক নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে, ভারত সরকার তার অবস্থান দৃঢ়ভাবে ব্যাখ্যা করেছে এবং দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক সমালোচনা তার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ভারতীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ পরিস্থিতি নিয়ে আরও মনোযোগী হতে বাধ্য। ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আরটি

সবার দেশ/এমকেজে