Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১০, ৪ এপ্রিল ২০২৫

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের রায়ের ফলে দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে জানান, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সংবিধানে নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন এবং দায়িত্বের বরখেলাপ করেছেন। তিনি বলেন, ইউনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের ওপর গুরুতর আঘাত হেনেছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল গত ৩ ডিসেম্বর, যখন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন ঘোষণা করেন। তবে, সামরিক আইন জারির ছয় ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং আইনের প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন। সংসদের এ পদক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট ইউন আইনটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

প্রেসিডেন্টের অপসারণ দাবিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছিলো। রাজধানী সিউলসহ বিভিন্ন শহরে লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত জনগণ রাস্তায় আনন্দ মিছিল করে এবং আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক ছাত্র নেতা বলেন, আজ আমাদের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। এ রায় দেখিয়ে দিলো যে, দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ স্বৈরশাসন মেনে নেবে না।

প্রেসিডেন্টের অপসারণের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ নির্বাচন দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ধারা নির্ধারণ করবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন না। তবে, তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে দাবি করা হয়েছে, আদালতের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি আইনের অপব্যবহার।

দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে এগোয়, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়: