Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৪ এপ্রিল ২০২৫

বিশ্ববাজারে ধস, আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ট্যারিফে ‘ট্রাম্প বোমা’ ইস্যুতে কংগ্রেসে বিভাজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ট্যারিফগুলো বাস্তবায়িত হলে আমেরিকান জনগণের জন্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য চক্রে ‘ডোমিনো এফেক্ট’ তৈরি হবে। অন্য দেশগুলো পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হবে।

ট্যারিফে ‘ট্রাম্প বোমা’ ইস্যুতে কংগ্রেসে বিভাজন
ছবি: সবার দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন ট্যারিফ (আমদানিকৃত পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক) নীতিকে ঘিরে কেবল অর্থনৈতিক অস্থিরতা নয়, সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েনও। রোজ গার্ডেনে দেয়া তার বক্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে ব্যাপক দরপতন শুরু হয়, যা অর্থনীতিবিদদের মতে ‘শুধু শুরু মাত্র’।

সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসেও দানা বাঁধে দ্বন্দ্ব। রিপাবলিকান দল নিজেই দ্বিধা ও মতবিভাজনের মুখে পড়ে গেছে—যেখানে হাউসের বেশিরভাগ সদস্য ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ালেও সিনেটে একাধিক সিনেটর প্রেসিডেন্টের শুল্ক ক্ষমতা সীমিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন।

কংগ্রেসে ট্যারিফ-কাটছাঁট বিল

রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্র্যাসলি এবং ডেমোক্র্যাট মারিয়া ক্যান্টওয়েল ‘ট্রেড রিভিউ অ্যাক্ট ২০২৫’ নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে প্রেসিডেন্টের যেকোনো শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসে ৬০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত না হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। সিনেটর গ্র্যাসলি বলেন, এ বিল নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের একটি প্রয়াস। ডেমোক্র্যাটরা একে প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি গণতান্ত্রিক প্রাচীর বলেই বর্ণনা করছেন।

বিভক্ত রিপাবলিকান শিবির

সিনেটর থিউন ও গ্র্যাসলির মতো রিপাবলিকান সিনেটররা এখনো সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান না নিলেও প্রকাশ্যে সমর্থন থেকেও দূরে আছেন। অনেকে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ মানসিকতায় রয়েছেন। তবে, রিপাবলিকান ব্যবসায়ীবিষয়ক সিনেটর জিম জাস্টিস পুরোপুরি ট্রাম্পের পক্ষে। তার ভাষায়, মার্কেটের অস্থিরতা পানি ভর্তি বালতিতে হাত ঢোকানোর মতো—প্রথমে ঝাঁপসা, পরে স্বাভাবিক।

ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে ‘অর্থনীতির ইচ্ছাকৃত ধ্বংস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটা কোনো বাণিজ্যনীতি নয়।’ সিনেটর অ্যাডাম শিফ এ সিদ্ধান্তকে ‘ধ্বংসাত্মক ও খামখেয়ালি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ

সাবেক অর্থমন্ত্রী লরেন্স সামার্স জানিয়েছেন, এ শুল্ক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে, যা প্রতি পরিবারে গড়ে ৩ লাখ ডলার। ইয়েল বাজেট ল্যাব বলছে, বছরে ৩৮০০ ডলার করে খরচ বাড়বে প্রতিটি গৃহস্থে।

অন্যদিকে মাইকেল স্ট্রেইনের গবেষণায় বলা হয়েছে, এ শুল্ক বৃদ্ধি জিডিপির ২ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে, এবং ১৯৬৮ সালের পর এটাই সবচেয়ে বড় কর বৃদ্ধি। তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এভাবে রাজস্ব সংগ্রহ করার চেষ্টা সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত।

ট্রাম্প বলছেন, ‘সব দেশ এখন আমাদের ফোন করছে’

যদিও বাজারে ধস, কংগ্রেসে প্রতিরোধ এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর মন্তব্য দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে বিচলিত নন। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো যাত্রার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা এখন চালকের আসনে। এখন সব দেশই আমাদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি। বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিক জানান, প্রেসিডেন্ট আলোচনায় প্রস্তুত, তবে শর্ত হতে হবে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযোগী’।

মূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ট্যারিফগুলো বাস্তবায়িত হলে আমেরিকান জনগণের জন্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য চক্রে ‘ডোমিনো এফেক্ট’ তৈরি হবে। অন্য দেশগুলো পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হতে পারে—তবে সে পথে রয়ে গেছে অনেক কাঁটা। রাজনৈতিক মঞ্চে রিপাবলিকান পার্টি নিজের ভেতরেই লড়ছে, আর অর্থনৈতিক অঙ্গনে শঙ্কা-উৎকণ্ঠা আর প্রতিক্রিয়ার ঝড় বইছে পুরোদমে।

সবার দেশ/কেএম