আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে সম্মানের ভিত্তিতে: ইরান
পিছু হটলেন ট্রাম্প, ইরানকে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব
মার্কিন হুমকির জবাবে ইরান জানায়, তারা আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ইরান কখনো মার্কিন হুমকির সামনে মাথা নত করবে না। হামলা হলে উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেয়া হবে।

বোমা হামলার হুমকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই এবার তিনি তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান অতীতে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যোগাযোগ করতো। এখন তারা সরাসরি আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সরাসরি সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
হুমকি থেকে সংলাপের দিকে মোড়
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ইরানের দৃঢ় প্রতিরোধ ও পাল্টা হুমকি মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
গত মাসে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান ট্রাম্প। তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে কঠোর সুরে জানায়— নতুন করে চাপের মুখে তারা কোনো সমঝোতায় আসবে না।
পরবর্তীতে ট্রাম্প ইরানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি নতুন চুক্তিতে না আসে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের জবাব: মাথা নত নয়, জবাব প্রস্তুত
মার্কিন হুমকির জবাবে ইরান জানায়, তারা আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ইরান কখনো মার্কিন হুমকির সামনে মাথা নত করবে না। হামলা হলে উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেয়া হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, আমরা সরাসরি নয়, কূটনৈতিক বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান চাই। আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে সম্মানের ভিত্তিতে।
পটভূমি: চুক্তি বাতিল ও উত্তেজনার সূচনা
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আরও পাঁচ দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি, যার মাধ্যমে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ পায়। তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একপাক্ষিকভাবে এ চুক্তি থেকে সরে আসেন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত করে।
এরপর থেকে একাধিকবার মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করেছে, যার অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হয়।
বিশ্লেষকদের মত: নরম সুর কৌশলগত পদক্ষেপ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এ হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প নতুন করে সমঝোতার পথে হাঁটতে চাইছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব কূটনীতির দৃষ্টি এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য নতুন সংলাপের দিকে। এ আলোচনার ফল নির্ভর করবে দুই পক্ষের ছাড় দেয়ার সদিচ্ছার ওপর।
সবার দেশ/কেএম