Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ জয়নুল আবেদীন


প্রকাশিত: ০০:১৬, ৬ এপ্রিল ২০২৫

প্রবন্ধ

জান্নাতুল বাকী ও প্রসঙ্গান্তর

জান্নাতুল বাকী ও প্রসঙ্গান্তর
ছবি: সবার দেশ

(১ম পর্ব)

মদিনা পৌঁছে মসজিদ-ই-নববীতে প্রথম ফজর নামায আদায় করি। মাজার জিয়ারত করে মাজারের পেছনের খোলা চত্বরে যেতেই গাইড সামসু ভাই দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আঙ্গুল তুলে-
- ঐ হলো জান্নাতুল বাকী।
- জান্নাতুল বাকী অর্থ কি?
- জান্নাত অর্থ স্বর্গ আর বাকী অর্থ টুকরা। জান্নাতুল বাকী অর্থ হলো বেহেস্তের টুকরা।
- ঐ স্থানটিকে বেহেস্তের টুকরা বলা হয় কেন?
হাসরের দিন এখান থেকে ৭০ হাজার লোককে হাসরের ময়দানে উঠানো হবে যারা বিনা বিচারে বেহেস্তে গমন করবেন। এখানে অনেক সাহাবী সাহাবিয়ানের সমাধি রয়েছে। জান্নাতুল বাকীতে রাসূল (স.)-এর যেসব প্রিয়জন শায়িত রয়েছেন তাদের পরিচয়, অবস্থান এবং ‘জান্নাতুল বাকীর কোন কোন্ স্থানে কার কার মাজার শরীফ ছিলো, কোন্ পার্শ্বে ছিলেন হুজুর পাকের (স.) পুত্রসন্তান হযরত ইবরাহিম বিন রাসূলুল্লাহ (রা.), হুজুর পাকের আদরের দুলালীগণ হযরত উম্মে কুলসুম (রা.), যায়নাব (রা.), হযরত রোকেয়া (রা.) এবং হযরত ফাতিমা জোহরা (রা.), কোন্ পার্শে ছিলেন উম্মুল মুমেনীনগণ হযরত সওদা (রা.), হযরত হাফসা (রা.), হযরত আয়েশা (রা.), হযরত উম্মে হাবিবা (রা.), হযরত সাফিয়া (রা.), হযরত জুওয়রিয়া (রা.), হযরত জয়নাব বিনতে জাহশ (রা.), এবং হযরত হযরত যয়নাব বিনতে খুজাইমা (রা.)। কোন কোন স্থানে ছিলেন রাসূলুল্লাহর চাচা হযরত আব্বাস (রা.), হুজুরের নাতী হযরত ইমাম হাসান (রা.), হযরত হুসাইনের পুত্র হযরত ইমাম যয়নাল আবেদীন (রা.), তদীয় পুত্র ইমাম বাকের (রহ.), তদীয় পুত্র হযরত ইমাম জাফর সাদেক (রহ.) তদীয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (রহ.) এবং হুজুর পাকের ফুফী আম্মা (হযরত হামযার বোন) হযরত সাফিয়া (রা.)। তাছাড়া কোথায় ছিলেন তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-এর মাজার, কোথায় হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.), হযরত সা'দ ইবনে মুয়াজ (রা.), হযরত ওসমান বিন মাযইন (রা.) হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.), সা'দ ইবেনে আবি ওয়াক্কাস (রা.), হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) হযরত আসআদ বিন যারারাহ (রা.), হযরত খুনাইস ইবনে হুযাদা সেহফী (রা.), হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ (রা.), হযরত নাফিয়া বিনতে মাওলা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.), হযরত ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রহ.), হযরত আক্কিল ইবনে আবু তালেব (রা.), হযরত আবু সুফিয়ান হারেস (রা.) এবং হযরত আবদুল্লাহ বিন জা'ফর তাইয়্যার (রা.)-এর পবিত্র মাজার শরীফ একদিন এখানে সুচিহ্নিত ছিল।' (এ অংশ ‘চোখের জলে প্রেমের হজ' গ্রন্থের অনুসরণে)।

বিশালায়তনের জান্নাতুল বাকীর উত্তরে কিং আবদুল আজিজ স্ট্রিট, দক্ষিণে আলী বিন আবু তালিব রোড, পশ্চিমে মসজিদে নববীর খোলা চত্তর ও পূর্বে প্রথম রিংরোড এই চৌহদ্দিভুক্ত কম-বেশি ২,২৫,০০০ (দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার) বর্গমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে জান্নাতুল বাকীর স্থান। প্রচলিত ধারণা এই যে, পরলোক গমনের পর জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত হলে গোরাজাব লাঘবসহ আল্লাহ এবং আল্লাহর নবী (স.)-এর বিশেষ অনুকম্পা লাভ করা যায়। এ কারণে আরবের দূরদূরান্ত থেকে মৃতব্যক্তিদের এখানে এনে সমাহিত করা হয়। ফলে মসজিদে নববীর মতো জান্নাতুল বাকী স¤প্রসারিত হতে হতে এ বিশাল অবস্থায় পৌঁছে গেছে।
আমাদের কথপোকথনের স্থান থেকে শ'খানেক গজ দূরেই কম-বেশি পাঁচ ফুট উঁচু দেয়াল ঘেরা জান্নাতুল বাকী এলাকা। ফজরের নামায আদায় করে

কবর জিয়ারতকারীগণ জান্নাতুল বাকীতে প্রবেশ করার জন্য গেটে ভীড় করে আছে। তা দেখে-
প্রশ্ন ওখানে আজ এতো লোকের ভীড় কেন?

শুধু আজ নয়, ওখানে প্রতিদিনই এ সময় হাজার হাজার লোকের ভিড় হয়। আমরাও ওখানেই যাবো, ভিড়ের সাথে সামিল হয়ে জান্নাতুল বাকীতে প্রবেশ করবো। দোয়া-দরুদ পাঠ করে মোনাজাত করবো। মক্কা এসে মদিনা জিয়ারত না করলে আল্লাহ যে কারণে নাখোশ হন, সে একই কারণে মদিনা এসে জান্নাতুল বাকী জিয়ারত না করলে নবী (স.) নাখোশ হন। যেমন করে আল্লাহর অতি প্রিয়জন চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন মদিনায় তেমন করে নবী (স.)-এর অতি প্রিয়জন চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন জান্নাতুল বাকীতে। কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাকীতে প্রবেশ করি। প্রবেশের শুরুতেই লক্ষ্য করি, এখানে কবরের কোনো স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক নেই। কিছু দূর পরপর স্তুপীকৃতভাবে পড়ে রয়েছে নানা আকারের পাথরের টুকরো। পাথরের টুকরো দেখে মনে হয়, কিছুক্ষণ আগে হাতুড়ি- শাবল দিয়ে কে বা কারা পাথরের নির্মিত সমাধিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভগুলো ভেঙে রেখে গেছে। আমাদের সাথে নজরুলও ছিল। বহু বছর যাবত আরব দেশে বসবাসরত নজরুলের কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে নজরুল জানায়-
- যতোটা পাথর চূর্ণের স্তূপ দেখছেন ততোটা কবর ছিল। এপিটাফের মতো করা পাথরের ফলকে মৃত ব্যক্তির নাম পরিচয়ও লেখা ছিল। নাম পরিচয় লেখা থাকার কারণে জিয়ারতকারীগণ কোনো কোনো কবরের ওপর সিজদা দিয়ে পড়ে থাকতো। কবরে সিজদা করা শিরক- জিয়ারতকারীগণকে শিরক থেকে রক্ষা করার জন্য এ অবস্থা করতে হয়েছে।

- কবরে সিজদা করা নিঃসন্দেহে গুনাহের কাজ। শুধু তুমি কেন, অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে আরবে শিরক-বিদাতের বিষয়টি যত জোরালো ও সোচ্চার হতে শুরু করেছে, এর আগে বারোশ' বছরেও ততো জোরালো ও সোচ্চার ছিল না। কয়েক বছর আরবে থাকতে না থাকতেই তুমিও পাল্টে গিয়েছ। তোমার মতো অবস্থায় পড়লে পরিবর্তন আমার মনেও আসতে পারে। কারণ, কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন গাইতে হয়। কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন করার বিষয়টি শুধু আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই- এ মনোভাব ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্বে। রাষ্ট্রের কর্তা বদলের সাথে সাথে কীর্তনের পালা ও সুর বদল হতে শুরু করে। উদাহরণ হিসেবে বলা চলে, বিশ্বনবী (স.)-এর পরলোক গমনের কয়েক বছর পর উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তখনও রাতারাতি মসজিদের খুতবা পাঠের ভাষাসহ ইসলামিক আইন-কানুন ও রীতিনীতি বদলাতে শুরু করে। শত বছর পর পতন হয় উমাইয়াদের। শুরু হয় আব্বাসীয় শাসন। 

আব্বাসীয়গণ সারাদেশের মাটির উপর থেকে উমাইয়া নিধন শেষ করে উমাইয়াদের কবর খুড়তে শুরু করে। কবর থেকে উমাইয়াদের হাড়-কঙ্কাল উঠিয়ে আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে ফেলে। কবরের হাড্ডি পোড়া প্রতিশোধ শেষ করে ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার জন্য মসজিদে খুতবার ভাষাই পাল্টায়নি। ‘আহলে বাইয়েত' ও 'ধর্ম' এ দুটি বিষয়ের প্রতি মানুষের অসীম দুর্বলতা লক্ষ্য করে এ দুটি বিষয়ের একটিতে প্রয়োগ করে ¯ পয়জন আর অপরটিকে করে উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার।

মোল্লাদের হাতিয়ার করে, মোহাম্মদী ইসলামের উপর যে কি পরিমাণ জুলুম-অত্যাচার হয়েছে তা দু'চার কথায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কিছু সংখ্যক সস্তাদামের মোল্লা খরিদ করে নিজেদের অনুক‚লে হাদিস-দলিল তৈরি করতে শুরু হয়েছিল খিলাফতের পর থেকেই। ইসলামিক বিচারের নামে ওলামা- এলেমগণ থেকে দেশের প্রধান বিচারপতি (হুজ্জাতুল কাজী) নিয়োগ করা হয়। উগ্র ইসলামি পরিচ্ছদ পরিধানসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশে রাখা হয় ইসলামিক স্থাপনাদিও। ভেল্কিবাজির ইসলামিক রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা কায়েম করার পর একদিকে হেরেম পূজা আর অপরদিকে আরবদের চিরাচরিত স্বভাব জাহেলিয়া যুগের প্রতিহিংসা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। গুপ্ত হত্যাসহ শরিয়তের বিচারের নামে কাজীদের দিয়ে আহলে বাইয়েতের চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করতে থাকে। প্রতিদিন শিরশ্ছেদ ও বেত্রাঘাতে জর্জরিত সুফি-সাধকগণ মাতৃভ‚মির মায়া ছেড়ে দেশ ত্যাগ করতে শুরু করেন। পাঁচ'শ বছর পর ক্ষমতার তেল নিঃশেষ হয় আব্বাসীয়দেরও। 

১২৫৮ সালে মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের হাতে স্বৈরশাসন, দুর্নীতি ও সীমাহীন ভোগবাদী বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফতের পতনের পর অনেক চড়াই উৎড়াই পার হয়ে ক্ষমতা চলে যায় তুরস্কের সুলতানদের হাতে সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে একই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে তুরস্কের সুলতানগণও। জাজিরাতুল আরব থেকে তুরস্কের সুলতানদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আরবের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা জানা আবশ্যক। এই সাথে জানা আবশ্যক আবদুল ওয়াহাব ও সাউদ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ ইবনে সাউদের মধ্যে সম্পর্ক। নবী করিম (স.)-এর পরলোক গমনের পর চার খলিফার খিলাফতকাল শুরু হয়। তন্মধ্যে হযরত আলী (রা.)-এর খিলাফতকাল চলে যায় উমাইয়াদের ক্ষমতা হাত বদলের সুভংকরের ফাঁক দিয়ে। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় ক্ষমতাই চলে যায় তাদের হাতে যারা ছিল ইসলামের ঘোর শত্রু। মা ও মাতৃকুল হারা হয়ে শত্রুকুলে সন্তানের যে হাল হয় সে হাল হতে শুরু করে ইসলাম ধর্মেরও। 

ইসলাম ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্নেহ-মমতা, প্রেম-প্রীতি, রাগ-অনুরাগ, শ্রদ্ধা-ভক্তি এবং হৃৎপদ্মহীন অবস্থায় বুক থেকে মুখে এসে শাসকের গায়ের পরিচ্ছদ ও হাতের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল শাসকের গায়ের পরিচ্ছদ ও হাতের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হতে গিয়ে বিকৃত ইসলামের পাহাড়ের তলে চাপা পড়ে যায় প্রকৃত ইসলাম। ত্রয়োদশ, শতাব্দী থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় ক্ষমতাই হাতছাড়া হয়ে যায় আরবদের। উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের মতো এক সময় মুখোস আগলা হতে থাকে ক্ষমতাসীন তুর্কীদেরও।

একের পর এক শাসকদের মুখোস আগলা হতে থাকলে রাষ্ট্রীয় সুবিধা বঞ্চিত সাধারণ মুসলমানদের ঘোর কেটে ভোর হতে শুরু করে। বোধোদয় হওয়ার পর উষ্ণতা বাড়তে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও। সিংহাসনলোভী, হেরেম পূজারী ও ভোগবাদীদের হাতে রাষ্ট্রের অলস নিয়ন্ত্রণ ও বিকৃত ইসলামের পাহাড় দেখে মুহাম্মদ (স.) প্রেমিক মুসলমানগণ দিশাহারা হয়ে পড়ে। বিকৃত ইসলামকে মুহম্মদী ইসলামের আদলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের খুঁজতে থাকে যাদের পূর্ববর্তীর মাধ্যমে ইসলাম অবতীর্ণ হয়েছিল। ইসলাম ও জাজিরাতুল আরবের প্রতিষ্ঠাতার পরবর্তী ওয়রিশগণ মুহাম্মদী ইসলাম বুকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় শাসনযন্ত্র থেকে নিরাপদ দূরত্বে খানকা শরিফ কিংবা গোপন আস্তানায় বসে সঙ্গোপনে স্নেহ-মমতা, প্রেম-প্রীতি, রাগ-অনুরাগ ও শ্রদ্ধা-ভক্তিপূর্ণ মুহম্মদী ইসলাম প্রচার করে যাচ্ছিল। 

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর মুসলিম চেতনার সন্ধিক্ষণে ব্রিটিশদের মদদ, আর্শীবাদ ও সাহায্যপুষ্ট হয়ে নতুন মতবাদ নিয়ে হাজির হয় আবদুল ওয়াহাব (১৭০৩-১৭৯২)। আ: ওয়াহাব ভালভাবেই জানতেন, পরিবর্তনের জন্য গরম লোহায়ই ঘা মারতে হয়। আবদুল ওয়াহাব সুকৌশলে ও সুপরিকল্পিতভাবে ইসলামকে নিস্তেজ করার উদ্দেশ্যে ধর্মের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভেতর থেকে হাতিয়ার হিসেবে এমন একটি স্পর্শকাতর অঙ্গ বেছে নেয় যা দিয়ে সহজেই ইসলামের অপরাপর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো অবশ ও নিস্তেজ করে ফেলা যায়। সে তার মতবাদ প্রচার করতে গিয়ে নিজ এলাকা থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে আদ-দ্বার ইয়াহ শহরের সর্দার মতান্তরে আমির মুহম্মদ ইবনে সাউদ (মৃত্যু ১৭৬৫)-এর কাছে। দুজনের একজন ‘ধর্ম’ আর অপরজন ‘রাষ্ট্র’ নিয়ন্ত্রণ করার স্বপ্ন দেখে। ওয়াহাবীর মতবাদকে হাতিয়ার হিসেবে হাতে নিয়ে দুজন চুক্তিবদ্ধ হন। দুজনের মিলিত চিন্তার ফসল সুদূর প্রসারী করতে মুহাম্মদ ইবনে সাউদের পুত্র আব্দুল আযীয ইবনে মুহম্মদ ইবনে সাউদের সাথে আব্দুল ওয়াহাবের কন্যাকে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করেন। শুরু হয় দু বিয়াইয়ের অভিযান। একজন ধর্মের স্কন্ধ থেকে ‘শিরক’ আর অপরজন রাষ্ট্রের স্কন্ধ থেকে ‘ভোগবাদ’ দূর করার শ্লোগান মুখে নিয়ে ‘সউদী সাম্রাজ্যে ওয়াহাবী ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে যে আন্দোলন হয়েছিল সে আন্দোলণের নামই ‘ওয়াহাবী আন্দোলন’। আমার এ বক্তব্যের পক্ষে অনেক সমর্থন ও প্রমাণ রয়েছে।

"Imam" Muhammad ibn Saud (Arabic: Jan) (d. 1765) is considered the first head of the House of Saud, which is technically named for his father, Saud ibn Muhammed ibn Muqrin. The initial power base was the town of Ad-Dar'iyah, where he met Muhammad ibn Abd-al-Wahhab, who came to Saud for protection. Ibn Saud granted this, and the two decided to work together to rid the Arabian peninsula of what they saw as innovations (heretics) in the practice of Islam by bringing the religion back to its purest form. They formed an alliance, and this was formalized by the wedding of Ibn Abd-al-Wahhab's daughter to Abdul Aziz, son and successor of Ibn Saud."
**Reference: http://en.wikipedia.org/wiki/Muhammad_ibn_Saud. (চলবে,,,)

লেখক: আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক