ব্যাংকক বৈঠকে আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
মোদির বোধোদয়, ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে রাজী

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেক (BIMSTEC) সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি দুই নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক হতে যাচ্ছে এবং এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের (CAO) একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান বলেন,
আমরা ভারতের সঙ্গে এ বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ করেছি... এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর অংশ হিসেবেই অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়
১. রোহিঙ্গা সংকট: ভারতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ভারত কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে।
২. বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যৌথ প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
৩. বিমসটেক জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ড. ইউনূস এবার বিমসটেকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ফলে বিমসটেককে আরও কার্যকর করা, সংস্থাটির কাঠামোগত সংস্কার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
৪. আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা, মানব পাচার রোধ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
ড. ইউনূসের নতুন ভূমিকায় কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মূলত একজন অর্থনীতিবিদ এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত। তবে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই প্রথমবার তিনি ভারতের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এটি বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক মোড় আনতে পারে।
বৈঠকের গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ বৈঠক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে এবং বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা স্পষ্ট করবে।
আগামী ৪ এপ্রিল, ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমসটেকের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন অধ্যাপক ইউনূস। এ প্রক্রিয়ায় ভারত কী ধরনের সহযোগিতা দেবে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এটি শুধু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য নয়, বিমসটেক জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্যও একটি বড় দিকনির্দেশনা দেবে।
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, বাসস, হিন্দুস্তান টাইমস
সবার দেশ/কেএম