Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ৪ এপ্রিল ২০২৫

ড. ইউনূসের ক্যারিশম্যাটিক কুটনীতির ফসল

প্রথম ধাপে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে নিতে সম্মত মিয়ানমার

প্রথম ধাপে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে নিতে সম্মত মিয়ানমার
ফাইল ছবি

মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, মিয়ানমার এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান শোয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানকে এ তথ্য জানান।

বিগত কয়েক বছরে রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া, যাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রক্তাক্ত সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও, মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছিলো।

তবে এবার, মিয়ানমার সরকার স্বীকার করেছে যে, প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ ফিরতি প্রক্রিয়া শুরু হতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

রোহিঙ্গাদের তালিকা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া

মিয়ানমারের সরকার বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই করে দেখে তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি ফেরত নিতে উপযোগী। ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে এ তালিকা ছয় ধাপে প্রদান করে। এর মধ্যে ৭০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলমান। যাচাইয়ের জন্য তাদের ছবি ও নামের মাধ্যমে সঠিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে।

এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, বাকি রোহিঙ্গাদের ভাগ্যও নির্ধারণ হবে। ইতোমধ্যে, মিয়ানমারের কাছ থেকে প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার ফিরতি প্রস্তুতি নেয়া হলেও, বাকী ৫ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আরো সময় এবং কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।

সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

এ পদক্ষেপটি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তবে এ প্রক্রিয়া শুধুমাত্র বাংলাদেশের এবং মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষত জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্যান্য দেশগুলির সমর্থন এবং নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্বও আন্তর্জাতিক সমাজের উপর বর্তায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন নিশ্চিত করা না হলে এ প্রক্রিয়া অনেক বেশি অস্থায়ী হতে পারে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করে এ সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট: একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা

রোহিঙ্গা সংকটের শুরু ২০১৭ সালে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ এর অভিযোগ তোলার পর থেকে এ সংকট আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ানমার সরকার এরকম অভিযোগ অস্বীকার করলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের উপর চাপ বৃদ্ধি করতে থাকে। এ নতুন পদক্ষেপকে কূটনৈতিক পরিসরে একটি সম্ভাব্য শান্তির প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এটি রোহিঙ্গাদের জন্য একেবারে নিরাপদ এবং স্থায়ী জীবনের নিশ্চয়তা দেয় কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

যেহেতু রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে, সেহেতু বাংলাদেশের প্রশাসন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিভাবে পুনর্বাসন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে, এটি শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

অতএব, এ প্রথম ধাপের পরবর্তী প্রক্রিয়া ও সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং মনোযোগ অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

সবার দেশ/কেএম