Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আপডেট: ২০:০১, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

জনকল্যাণমুখী আমলাতন্ত্র গঠনে দরকার সামাজিক আন্দোলন

জনকল্যাণমুখী আমলাতন্ত্র গঠনে দরকার সামাজিক আন্দোলন
ছবি: সবার দেশ

ঝিম ধরা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা আমলাতন্ত্র বদলানো প্রয়োজন।

চলুন কিছু অস্ত্র আপনাদের হাতে এবং কিছু আমার হাতে নিয়ে সে অস্ত্র আমলাদের বুকের মধ্যে ধরি আর আপনাদের কথা বলি যে, এর দ্রুত সমাধান করে দিন।

এখানে হাসনাত ‘অস্ত্রের কথা’ রূপক অর্থে বুঝিয়ে ছেলেদের বলেছেন, তোমরা এতো তাড়াহুড়ো করোনা, তাহলে তো আমার এরকম করা উচিত বলে মনে করছি। তিনি বলতে চেয়েছেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ হচ্ছে। সবুর করুন। যুগ যুগ ধরে পচেঁ যাওয়া আমলাতন্ত্র এতো সহজেই সুগন্ধি বিলাবে না।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে গণঅভ্যুত্থানে আহতদের আয়োজিত দাবি আদায়ের  সমাবেশে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে সমন্বয়ক হাসনাত এরকম বলেছেন।

আগামী ৮ তারিখে নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়ে যাবে অথচ গণঅভ্যুত্থানে আহতদের এখনও পরিপূর্ণ পুনর্বাসন হয়নি। তাদেরকে এখনও রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে তাদের অবদানের স্বীকৃতির জন্য।

আমলাতন্ত্রের লাল ফিতার দৌড় সম্বন্ধে আমরা সবাই কমবেশি সবাই পরিচিত। দুঃখজনক হলেও সত্য যে এরকম সময় ক্ষেপণ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও আমলাদের দ্বারা সাধিত হচ্ছে। উপদেষ্টা মহোদয়গণ এতোটাই সুশীল যে তারা আমলাদের উপর কঠোর আচরণ করতে পারছেন না। চলমান আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করার ফলে পরিস্থিতি অনেকটা আগের সরকারের আমলের মতোই রয়ে গেছে। 

আমলারা সব বুঝেন, তবে কেনো বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারছেন না। তারা কি চান যে দেশ আগের মতোই থাকুক এবং দেশের মানুষ ঠিক আগের মতো নিষ্পেষিত হোক তাদের ঢিমেতালে কাজের যাতাকলে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, আপনারা কঠোর হোন । তা না হলে বর্তমান পরিস্থিতির বিপদ তো কাটবেই না, বরং সামনে বিপদ আরও বৃদ্ধি পাবে। 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আমলারা যদি আপনাদের নির্দেশমতো কাজ করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তাদের পরিবর্তন করুন। যদি পরিবর্তনে আইনি ঝামেলা থাকে এবং তা যদি সময় নির্ভর হয়, তাহলে নতুন অর্ডিন্যান্স জারি করে তা করুন। দেশে যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

খবরে প্রকাশ এখনও ৩৮ জন আমলা পতিত স্বৈরাচারী সরকারের অনুসারী বহাল তবিয়েতে তাদের আমলাগিরী চালিয়ে যাচ্ছেন। আর কালক্ষেপণ না করে তাদেরকে ন্যূনতম পক্ষে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় করে দিন। তাদের মধ্যে যাদের দ্বারা কোন অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন হয়েছে, তার যদি যদি প্রমাণ থাকে তাহলে তাদের প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করুন। 

আমলাদের সাথে আর প্রেম-প্রেম খেলার কোন প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রকে তারা কেমন ভালো কিছু উপহার দিয়েছে গত ৫৩ বছরে তা জাতির কাছে প্রকাশিত। 

আসলে আমাদের দেশের শিক্ষিত জনতাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে আমাদের। পাকিস্তান আমলে ২৩ বছর পশ্চিম পাকিস্তানীরা আমাদেরকে শাসন-শোষণ করেছে, তার আগে ২০০ বছর ব্রিটিশরা আমাদের শোষণ-শাসন করেছে। আর বিগত ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশের (তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত) শ্রেণীর লোকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে এ দেশের। বলাই বাহুল্য তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আমলা অত্যন্ত সৎ, মেধাবী এবং যোগ্য ছিলেন, কিন্তু তারা বাকিদের তুলনায় অপাংন্তেয়।  আমাদের মেধাবী সে সূর্য সন্তানেরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে আসীন হয়ে নাগরিকদের নিজেদের অধীনস্থ চাকর মনে করে রাজা সেজে বসে সমগ্র জনতাকে ভোগান্তির কবলে ফেলেছে। যা বর্তমান সময়েও অব্যাহত গতিতে ধাবমান আছে। 

আরও পড়ুন<<>> বিভাগীয় আইন যেন অপরাধীর রক্ষাকবচ

এ অবস্থার অবশ্যই অবসান হওয়া দরকার, আর ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে এখনই সময় সে অবস্থার সূরাহা করা। 

বর্তমান আমলাতন্ত্র তথা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে যে সমস্ত খারাপ, অন্যায্য কাজগুলো তাদের দ্বারা সাধিত হয় এবং এরকম কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গঠিত হোক। 

আসুন প্রিয় পাঠক, আমরা সবাই যে যার জায়গা থেকে গণসচেতনতা তৈরি করি এবং এ সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। 

বৈষম্যহীন ছাত্র জনতা আমাদেরকে চোখ খুলে দিয়েছে । তাই  সময়ের প্রয়োজনে সারা বাংলাদেশের মানুষের এখন  জরুরী ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থেকে সমস্ত অনিয়মের মোকাবেলা করা উচিৎ, যা একমাত্র সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই করা সম্ভব।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।