Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ১২:৫৭, ৩ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ১২:৫৮, ৩ এপ্রিল ২০২৫

বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন কোনটি আগে?

বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন কোনটি আগে?
ছবি: সবার দেশ

সংস্থার হতেই হবে; কেনোনা, রাজনীতিবিদদের অনেকেই তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনতার আদালতে দোষী হয়ে আছেন। তাদের মাথায় সব সময় এটা থাকা উচিত ছিলো যে, আমরা যা কিছু করবো তা অবশ্যই, অবশ্যই জনগণের কল্যাণের জন্য করবো, নিজেদের আখের গোছানোর জন্য নয়। 

রাজনীতিবিদদের উচিত সর্বাগ্রে নিজেদের এবং দলের সংস্কার সাধন করা। তাদের কর্মীবাহিনীকে নৈতিকতা সম্পন্ন সৎ নাগরিক হিসাবে তৈরি করা, চাঁদাবাজিত থেওক দূরে রাখা, জনতার কল্যাণে নিজেদের সময় ব্যয় করা, নির্লোভ থাকা, নিজের স্বার্থের আগে পরের স্বার্থ দেখা। যখন স্বচ্ছতা, বিনয়, সরলতা, ইনসাফ, ভদ্রতা, মেধা এবং প্রজ্ঞা যত ধরনের বিশেষণ আছে অর্থাৎ মানব জীবনের সকল গুণাবলী না হলেও গুণাবলী গুলোর বেশিরভাগ তাদের চরিত্রে প্রতিফলিত হতে দেখা যাবে, তখন তারা আবার সাধারণ জনতার প্রিয়জনে পরিণত হতে পারবেন। তাহলেইতো ল্যাঠা চুকে যায়।

গতানুগতিক রাজনীতিতে আমরা কি দেখতে পাই, বাংলাদেশের যেকোনও মানুষ তার পছন্দানুযায়ী কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে সে দলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত করে তোলেন। যদিও এ সমস্ত কর্মীদের মধ্যে বেশিরভাগ সদস্যই সাধারন কর্মী হিসেবেই দলে থেকে যান। হালকা কিছু আপ্যায়ন এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তারাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আবার বিরোধী দলে থাকলে যত ধরনের অনাচার অত্যাচার তাদেরকেই বেশি পোহাতে হয়। আর যাদের ওপরের স্তরের নেতাদের সাথে যোগাযোগ ভালো থাকে এবং তাদেরকে চাটুকারিতার মাধ্যমে সে বড় নেতাদের কৃপায় যারা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উপরে উত্তীর্ণ হতে পারেন। তখন তারা আবার বড় নেতাদের মতো তাদের অধঃস্তন কর্মীবাহিনীকে ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় কমিটির নজর কাড়েন। পরবর্তীতে মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে এমপি, মন্ত্রী হয়ে শাসকের আসনে অধিষ্ঠিত হন। 

এছাড়া কখনও রাষ্ট্র ক্ষমতায় পট পরিবর্তন হলে অর্থাৎ দুঃখের দিনে বা কঠিন সময়ে এ নেতারা আবার দেশে অথবা বিদেশে কিন্তু ভালো অবস্থানেই থাকেন বেশিরভাগ সময়। কেননা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে সাধারণ কর্মীদের চেয়ে। এখানে ব্যতিক্রম খুবই সামান্য, তেমন একটা নজরে পড়ে না ভালো রাজনীতিবিদের। দু'একজন ভালো যারা থাকেন তারা কখনও আলোতে আসেন না, তাদেরকে কেউ মনে রাখে না, তেমন মূল্যায়ন হয় না তাদের। তারা আড়ালেই থেকে যাযন। এছাড়াও আরেকটি ব্যাপার অত্যন্ত লক্ষণীয় যে, আমাদের দেশের বেশ কিছু মন্ত্রী এমপি এবং রাজনীতিবিদরা পরবর্তীতে তাদের পদ ধরে রাখার জন্য দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের যেমন চামচামি করে থাকেন, তেমনি পার্শ্ববর্তী অথবা শক্তিধর কোন রাষ্ট্রের আনুকূল্য পাওয়ার জন্য তাদের দালালি করতেও কার্পণ্য করেন না। দেশের স্বার্থ বলি দিয়ে হলেও তাদের দালাল বনে যান। অর্থাৎ তাদের নীতি নৈতিকতা পুরোপুরি বিসর্জন দেন নিজের স্বার্থের জন্য। এক কথায় তাদেরকে কোনভাবেই দেশ প্রেমিক বলা যায় না, তারা ঘরের শত্রু বিভীষণ!

আরও পড়ুন <<>> জনতার পছন্দের ব্যক্তিই হোক রাষ্ট্রসেবক, অরাজনৈতিক? হু কেয়ার্স?
 
সম্প্রতি এজন্যেই বর্তমান নতুন প্রজন্ম এ জাতীয় আদর্শহীন পুরনো রাজনীতিবিদদের ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।  যা জাতির কাছে পরিষ্কার হয়ে আছে একটি পতিত দলের প্রায় সকল সদস্য নেতৃবৃন্দ পালিয়ে যাবার বদৌলতে। 

তাই সর্বপ্রথম সংস্কার দরকার ব্যক্তির। ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে নিজে সংস্কার করতে পারলে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই দলের সংস্কার হয়ে যাবে। কিন্তু এ উদ্যোগটি সর্বপ্রথম শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেই গ্রহণ করতে হবে, পরে ক্রমানুসারে নিচের দিকে। কেননা সর্বোচ্চ পদে  যিনি আছেন, তিনি যখন নিজেকে শোধরানোর কঠিন পণ করবেন এবং সত্যি সত্যিই নিজেকে শুধরাবেন তখন অবশ্যই তাকে দেখে অন্যেরাও অনুপ্রাণিত হবেন। 

সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সংস্কারের চেয়েও আরো বেশি জরুরী হলো দোষীদের বিচার কার্যকর করা। কেননা বিচার না হলে এ দোষীরা পরবর্তীতে আবারও একই কাজে পুনরায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করবেন এবং জাতিকে আবারও কলঙ্কযুক্ত করবেন। তাই সবার আগে বিচার তারপর সংস্কার তারপর একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে এ জাতিকে একটি সুন্দর কাঠামোতে দাঁড় করাতে হবে । তবেই হবে জাতীয় মুক্তি এবং জনগণ পাবে সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।