অসৎ রাজনীতি বন্ধ, বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের ডাক

বেকারত্বকে অসহায়ত্ব না ভেবে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করা যায় খুব সহজেই। মানুষ যখন বেকার থাকে, তখন তার হাতে অফুরন্ত সময় থাকে। এ অফুরন্ত সময়ের ফাঁদে পা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ নষ্ট রাজনীতিতে প্রবেশ করে। দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিজেকে শক্তিশালী মনে করে। তার মধ্যে কেউ কেউ যদিও ভালো থাকে তবে, বেশিরভাগই গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে রাজনীতি করার বিনিময়ে সুখ সন্ধানে নিজের জীবনকে মরীচিকার পিছনে ধাবিত করে ফেলে।
বিগত ৫৪ বছর ধরে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আসলে এমনটিই। আজ পর্যন্ত কোন সরকারই আমাদের স্বাধীনতার বা মুক্তির পূর্ণ স্বাদ দিতে পারেনি।
২৪ এর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সময় এসেছে আমাদের এ বিশাল বেকার সমাজ নিয়ে চিন্তা করার। ইতিমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা তার বিভিন্ন ভাষণে আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, মাত্র ৬ মাসের ট্রেনিং দিয়ে জাপানসহ ইউরোপের অনেক জায়গায় আমাদের দেশের লোকদের কাজে পাঠানো যায়, যারা আমাদের দেশের জন্য অমূল্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।
রাজনৈতিক সরকারের বিভিন্ন ধান্দা থাকে। তারা তাদের গোষ্ঠীকে এবং কায়েমি স্বার্থকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের কাঙ্ক্ষিত স্বার্থের দিকেই দৌড়াতে দেখেছি আমরা বিগত দিনগুলোতে। এক কথায় তাদের কর্মকান্ডে বাংলাদেশের জনগণ মোটামুটি হতাশ। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মতো নয়। এখনই সময় ভালো কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করার, আমরা আশাবাদী তারা অবশ্যই পারবেন ইনশাআল্লাহ।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানী বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কোর্স কারিকুলাম তৈরি করে বিভিন্ন কলেজ অথবা ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন মেয়াদী শিক্ষা ও ভাষাগত জ্ঞান প্রদান করে উপযুক্ত কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হলে অতি সহজেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার জন্য সে কর্মীদের নানা দেশে কাজের জন্য প্রেরণ করা যাবে।
একদল স্বচ্ছ, সৎ, নির্লোভ, অকুতোভয়, যোগ্য মানুষের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা আবশ্যক। কর্মী তৈরি থেকে বিদেশে প্রেরণ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় যে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট থাকবেন, তাদেরকে অবশ্যই বাছাই করে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তা না হলে পুরো পদ্ধতিই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রেরণে নিয়োজিত যে সকল রিক্রটিং এজেন্ট থাকবে, তাদেরকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পারলে মিশন সফলতা লাভ করবে।
আরও পড়ুন <<>> বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন কোনটি আগে?
এতো গেলো কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক রকম উপায়। এছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশে আসলে তাদেরও অসংখ্য কর্মী প্রয়োজন হবে। তখন সে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা মোতাবেক আমাদের বেকার সমাজকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চাঙ্গা করার আরেকটি উপায় হতে পারে।
পরিশেষে প্রশাসনের সৎ এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বেকারত্বকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করে সম্পদে রূপান্তর করতে পারা যায়। এজন্য দরকার সরকারের শীর্ষ ব্যক্তির সদিচ্ছা ও কঠোর অনমনীয় মনোভাব। বর্তমানে যিনি আছেন তার চরিত্রে এরকম গুণাবলী আমরা দেখতে পাচ্ছি। হ্যাঁ তার দ্বারাই সম্ভব।
তরুণ সমাজসহ আমরা যারা মধ্য-বয়সীরা আছি, তারাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি বেকারমুক্ত বাংলাদেশ দেখার জন্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় এবং সুযোগ দুটোই বিদ্যমান আছে। আশা রাখছি খুব দ্রুতই এরকম একটা উদ্যোগ দেখতে পাবো এবং বেকারত্ব মুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবতা হয়ে আমাদের হাতে ধরা দিবে ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আকুল আবেদন, হে কান্ডারী, হে দিশারী ! সম্প্রতি আপনি বলেছেন যে, দেশের ভালো করতে হলে ভিন্নভাবেও দেশ পরিচালনা করা দরকার। হ্যাঁ আপনিই পারবেন। আপনি যখন পথ বাতলিয়েছেন, তাহলে আমাদের বেকারদের এ পথের সৌভাগ্যবান পথিক বানিয়ে দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলুন। তখন দেশ মাতৃকার বেকার সন্তানেরা রাজনৈতিক নষ্ট শ্রমিক হওয়ার পরিবর্তে একেকজন সাগর সেচা মানিকে রূপান্তরিত হবে।
লেখক:
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।