নিজেকে বদলালেই দিগন্ত বদলায়

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল। বিল্ডিং এর অবকাঠামো, বাহিরের পরিবেশ দেখতে সুন্দর, ভেতরের অবস্থা এবং পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা।
লিফট আছে, লিফটে উঠলাম, সিঁড়ি দিয়ে নামলাম। নামার সময় সিঁড়ির দেখতে পেলাম প্রায় জায়গায়ই কফ, থুতু, পানের পিক, টিস্যু পেপারের উচ্ছিষ্ঠাংশ এমন ভাবে নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা দেখে যে কারোরই মনে হবে যে, দর্শনার্থী ও রোগীদের চরম ঘৃণা অথবা তাদের মনের কদর্য দিক চিত্রকরের মতো সিঁড়ির আশেপাশে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর অবহেলাই প্রকাশ পাচ্ছে। মনে হলো এখানে ভালো কেউ মূল দায়িত্বে নেই, সযত্ন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। রোগীদের সাথে আলাপে জানা যায় হাসপাতালে বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অসহযোগীতামূলক মনোভাব এবং স্বেচ্ছাচারিতা কথা।
বড় বড় ডিগ্রিধারী, শিক্ষাগত যোগ্যতা চমকপ্রদ, ভালো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে মর্যাদাকর পাবলিক পরীক্ষা বিসিএস দিয়ে উত্তীর্ণ কোন কর্তাব্যক্তি সরকারি ক্যাডার অফিসার হয়ে দায়িত্বে বসেছেন হয়তো। সার্টিফিকেটের মান-মর্যাদা যত উঁচুতে, তার মনের ভাবটি যদি সেরকম সমমানের হতো, পাশাপাশি দেশের আপামর সাধারন জনতা মানে জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, মানবিক হৃদয়, সৌন্দর্য চেতনা, সহানুভূতি এবং দায়িত্বের প্রতি যথাযথ কর্তব্যপরায়ণতা বোধ থাকতো, তাহলে হয়তো এ হাসপাতালের চেহারা দেশের অন্য একটি প্রাইভেট হাসপাতালের মতো হতে পারতো।
ছোট এ প্রতিবেদনটিতে হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শুধু একটি সাইট নিয়ে আলোচনা করা হলো। হাসপাতালের অনান্য দফতরের ভেতরে প্রবেশ করলে হয়তো এর চেয়ে অনেক বেশি তথ্য এবং অনিয়মের চিত্র ধরা পড়বে। সরকারি অথবা বেসরকারি হাসপাতালে যে সমস্ত ডাক্তার কর্মচারী কর্মকর্তারা কাজ করেন, তারা সকলেই প্রায় এদেশেরই মানুষ। তাহলে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ ভালো হয়েছে সরকারি হাসপাতালে কেনো হয় না? একজন সাধারণ মানুষের মনে তো এরকম প্রশ্ন আসতেই পারে।
আরও পড়ুন <<>> অসৎ রাজনীতি বন্ধ, বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের ডাক
সময় বদলেছে, অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, আশা করি হাসপাতালগুলোতেও খারাপের চিত্র বদলে ভালো কিছু আসবে ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে আমরা যারা শিক্ষিত মানুষ, সরকারি বেসরকারি যেখানেই চাকরি বা কাজ করি না কেনো, আমরা কি পারিনা আমাদের কর্তব্যপরায়ণতা সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করতে। আমরা আমাদের পাঠ্যপুস্তকে তো ন্যায়-নিষ্ঠতা, কর্তব্যপরায়ণতা, নীতিবোধ ইত্যাদি সম্পর্কে পড়াশোনা করেই এসেছি, শিক্ষিত হয়েছি, তাহলে বাস্তব জীবনে এসে আমরা কেনো সে নীতি-নৈতিকতা প্রয়োগ করি না।
আসুন আমরা যে যার জায়গা থেকে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নীতি-নৈতিকতার সঠিক প্রয়োগ করি আমাদেরই প্রিয় জন্মভূমিকে একটি সুন্দর দেশে রূপান্তরিত করি। আসলে ভালো কিছু করতে হলে কোন কিছু বদলে দিতে হলে, নিজের ইচ্ছা আর মানসিকতাই প্রথম বদলে দেয়া প্রয়োজন।
লেখক:
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।