ইলন মাস্ক হারালেন ১১ বিলিয়ন ডলার
ট্রাম্পের ঘোষণায় একদিনেই উধাও ২০৮ বিলিয়ন ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন পারস্পরিক শুল্ক (reciprocal tariffs) নীতির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক বাজারে রীতিমতো ঝড় বয়ে গেছে। এ ঘোষণার পরদিন, ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণ থেকে একদিনেই উধাও হয়ে গেছে প্রায় ২০৮ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক এ ধসের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তার সম্পদের পরিমাণ একদিনে কমেছে ১১ বিলিয়ন ডলার, যা মূলত টেসলার শেয়ারের বড় পতনের ফল।
ধাক্কা খেলেন মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোসসহ শীর্ষ ধনকুবেররা
- বাজার ধসের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন মেটা (ফেসবুক) প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। তার মোট সম্পদের ৯ শতাংশ হারিয়ে একদিনে ১৭.৯ বিলিয়ন ডলার মুছে গেছে।
- অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও হারিয়েছেন ১৫.৯ বিলিয়ন ডলার।
- ডেল টেকনোলজিস-এর প্রধান মাইকেল ডেলের লোকসান ৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার।
- অরাকল সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন হারিয়েছেন ৮.১ বিলিয়ন ডলার।
- আর এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং খুইয়েছেন ৭.৩৬ বিলিয়ন ডলার।
গুগলের ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, এবং ইউরোপের ধনকুবেরদের অবস্থা
গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন যথাক্রমে ৪.৭৯ বিলিয়ন ও ৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি হচ্ছেন ফরাসি ধনকুবের বার্নার্ড আর্নল্ট। বিলাসবহুল পণ্য ব্র্যান্ড এলভিএমএইচের মালিক এ বিলিয়নেয়ার একদিনেই হারিয়েছেন ৬ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের ঘোষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত বিলাসবহুল পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে এ ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় বাজার বিশ্লেষকরা।
বাজার পতনের পেছনে কী?
ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক নীতির ঘোষণা অনুযায়ী, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যে বেশি শুল্ক ধার্য করে, তাদের পণ্যের ওপরও সমান হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এ পদক্ষেপের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রভাবে বড় প্রযুক্তি এবং বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর শেয়ারে ব্যাপক পতন ঘটে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এটি ১৩ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ বৃহত্তম একদিনের পতন, এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় ধস।
সবার দেশ/কেএম