Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:০৫, ৫ এপ্রিল ২০২৫

কৈলাস: নিখোঁজ রাষ্ট্রের গোপন সাম্রাজ্য

হিন্দু ধর্মগুরু নিত্যানন্দ – দ্য ডিজিটাল গুরু ইন এক্সাইল

বলিভিয়ায় গ্রেফতার স্বঘোষিত হিন্দু ধর্মগুরুর অনুসারীরা, ভুয়া রাষ্ট্রের নামে হাজার বছরের জমি লিজের চেষ্টা।

হিন্দু ধর্মগুরু নিত্যানন্দ – দ্য ডিজিটাল গুরু ইন এক্সাইল
ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালে শিশু অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারত থেকে পালায় স্বঘোষিত হিন্দু ধর্মগুরু নিত্যানন্দ। পরে ইকুয়েডরের উপকূলবর্তী একটি দ্বীপ কিনে সেখানে 'কৈলাস' নামে কথিত হিন্দু রাষ্ট্র গঠন করে। এরপর বলিভিয়াতেও জমি দখলের ষড়যন্ত্রে জড়ায় তার অনুসারীরা—এমনই দাবি করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

পালিয়ে যাওয়া পুরোহিত

২০১৯ সালের এক ঝিম ধরা সন্ধ্যায় ভারতের গুজরাটের এক আশ্রমে হঠাৎই পুলিশ হানা দেয়। শিশু অপহরণ, ধর্ষণ ও নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ নিয়ে তদন্তে নামে রাষ্ট্র। কিন্তু অভিযুক্ত নিত্যানন্দ, এক সময়কার আধ্যাত্মিক "রকস্টার", ইতোমধ্যে রাতের আঁধারে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে।

কেউ জানে না তিনি কোথায়। কেউ জানে না, কী পরিকল্পনা তার। কিন্তু কিছুদিন পরেই, ইন্টারনেট ঘেঁষে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত ঘোষণা:

‘Welcome to United States of Kailasa – the First Hindu Nation!’

এ এক রাষ্ট্র, যার নেই কোনো ভৌগোলিক স্বীকৃতি, নেই কোনও জাতিসংঘের সদস্যপদ—তবু এর রয়েছে পতাকা, সংবিধান, মন্ত্রিসভা এবং... রাষ্ট্রপতি: স্বয়ং নিত্যানন্দ।

রাজ্যের সন্ধানে

ইকুয়েডরের উপকূলীয় এক দ্বীপ—অবিকল জঙ্গলের মাঝে। গোপনে এক অজ্ঞাত দাতার মাধ্যমে কিনে নেয়া হয় দ্বীপটি। সেখানে শুরু হয় কৈলাসের নির্মাণ, যা আদতে এক সাইবার-ধর্মীয় সাম্রাজ্য। ইউটিউব আর ফেসবুকের লাইভ ভিডিওতে মানুষ দেখে প্রাসাদ, রথযাত্রা, ভক্তের ভিড়।

কিন্তু এ ভক্তেরা কে?

অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের অনেকেই উচ্চশিক্ষিত বিদেশি, ধনীর সন্তান, কেউ কেউ প্রাক্তন প্রযুক্তি সংস্থার কর্মী। তাদের একমাত্র পরিচয়—‘Citizen of Kailasa.’

বলিভিয়ায় হানা

২০২৪ সালের শেষের দিকে ল্যাটিন আমেরিকার বলিভিয়ার আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে দাবানল শুরু হয়। ঠিক তখনই হাজির হয় কৈলাসের ‘মিত্রতা মিশন’। তাদের পোশাক হিন্দু পুরাণের আদলে, হাতে সনদ, মুখে মন্ত্র। তারা আদিবাসীদের বলে, আমরা আপনাদের রক্ষা করতে এসেছি। আমাদের ধর্মে, জমি মাতৃসম।

আদিবাসী গোষ্ঠী ‘বাউরে’ প্রথমে দ্বিধায় পড়ে। তারপর কৈলাস প্রতিনিধিরা তাদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তোলা একটি ছবি দেখায়—বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। এটাই ভুলটা। বিশ্বাস করে তারা সই করে এক চুক্তিতে—২৫ বছরের জমি লিজ। কিন্তু খসড়ায় লেখা—১,০০০ বছর।

মুখোশ খোলে, গোপন রাষ্ট্র ফাঁস

খবর পায় বলিভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। পর্যটক ভিসায় আসা বিদেশিরা করছে জমি দখলের ছক। ২০ জন গ্রেফতার। তাদের ভেতর ভারত, আমেরিকা, সুইডেন, চীনের নাগরিক।

তদন্তে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য

এ প্রতিনিধিরা আসলে কৈলাসের ‘জমি অধিগ্রহণ টাস্কফোর্স’—একটি ছায়া সংস্থা, যারা বিভিন্ন দেশে জমি দখলের পরিকল্পনা করছিলো কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আদিবাসী দুর্বলতার সুযোগে।

অন্ধকার সাম্রাজ্যের শেষ?

নিত্যানন্দের কোনো ঠিকানা নেই। কোনো সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। কিন্তু কৈলাস নামে তার গড়া কাল্ট রাষ্ট্রটি আজও অনলাইনে সক্রিয়—সোশ্যাল মিডিয়ায়, ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে, আর গোপনে হিউম্যান ট্রাফিকিং ও মানসিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে চেপে ধরা এক অপরাধজগত।

কৈলাস এক নিছক ধর্মীয় চিন্তাধারা নয়, এ এক সাইবার রাষ্ট্র গঠনের ছদ্মবেশে বিস্তৃত কাল্ট-অপারেশন। এ এক কাল্পনিক ইউটোপিয়ার আড়ালে গ্লোবাল কাল্ট এক্সপানশন, যার কেন্দ্রে এক লোক: নিত্যানন্দ – দ্য ডিজিটাল গুরু ইন এক্সাইল।

সবার দেশ/কেএম