জনতার পছন্দের ব্যক্তিই হোক রাষ্ট্রসেবক, অরাজনৈতিক? হু কেয়ার্স?

মাশাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ, এবারের ঈদ যাত্রা অনেকটা নির্বিঘ্ন, আজ এ অবধি প্রত্যেকটি রেলগাড়ি নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। দেশের উত্তর এবং দক্ষিণ মুখী মহাসড়কে যে সমস্ত যানবাহন চলাচল করছে সেখানেও অনেকটাই ঝামেলা মুক্ত।
সদরঘাটের চিত্র আগেকার বছর গুলোর তুলনায় অনেকটাই শান্ত নিরিবিলি। ঈদের পূর্বে রেমিটেন্স এসেছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা অনেকটাই উন্নতির পথে। শুধুমাত্র পতিত সরকারের গুজব রটনাকারী গুজব লীগের পোস্টিং এ ফেসবুক সয়লাব। ফেসবুকে যে যাই লিখুক, সেখানে তো সবার জন্য লেখার অধিকার সমান, তাতে কিছু যায় আসে না । কিন্তু বাস্তবে মানুষ ভাবছেটা কি ?
তা টের পাওয়া গেল নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়া বাসা অভিমুখী কয়েকজন মুসল্লীর আলাপ-আলোচনায়।
১ম মুসল্লী: ভাই কি শুরু হয়েছে ওনারা নাকি সংস্কার চান না!
২য় মুসল্লী: তাই তো দেখছি খবরের পাতায়।
-আচ্ছা বলেন তো তাহলে কি হবে?
-কি আর হবে, যা হওয়ার তাই হবে !
উনারা তো তাড়াতাড়ি নির্বাচন চান, সংস্কার না করে নির্বাচিত হলে তাদের তো লাভ, গতানুগতিক ব্যবস্থার মত আগের মতোই সবকিছু চলতে থাকবে। তারপরে আবার আমাদের উপর তাদের মনগড়া সব নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে আমাদেরকে শোষণ করবে।
আমি এসব কথা শুনতে শুনতে তাদের পেছনে পেছনে তাদের অনুসরণ করছিলাম, হঠাৎ সামনে এক রিক্সাওয়ালা ভাইকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম । দেখি তিনি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছেন কৌতুহলী দৃষ্টিতে! তিনিও তাদের কিছু কথা ইতোমধ্যে শুনে ফেলেছেন ।
আমি: কি বুঝলেন ভাই ওনারা কি সঠিক বলেছেন?
রিক্সাওয়ালা: হ ভাই, কি আর কমু আমগো কপাল মন্দ, আমরা মনে অয় জীবনেও এই দেশে শান্তি পামুনা!
-কেন ভাই কি হয়েছে?
-ওই যে হুনলেন না, একদল গেছে লুটপাট কইরা, আরেকদল এখন নির্বাচন চাইতাছে, যেন তাড়াতাড়ি তারা আইয়া আমগোরে শাসন করতে পারে।
-আপনার ভাবনা কি, আপনি কি ভাবছেন?
-এইবার সুবিধা করতে পারবোনা, আমরাও বুইজ্যা গেছি, যারা বাটপারি করব তাগোরে আমরা আর ভোট দিমু না।
-ঠিক বলেছেন, আপনি সঠিক জায়গায় আপনার নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। কারণ আপনার আর আমার নাগরিক অধিকার সমান।
-আচ্ছা ভাই ইউনুস স্যার তো ভালোই চালাইতাছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এই রমজান মাসে আমরা অনেক কম দামে জিনিসপত্র কিনতে পারতাছি। আল্লায় যেন ওনারে কমপক্ষে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাহেন।
-তাই নাকি, আপনি ভালোই বলেছেন। আমার মনও তাই বলে।
-আগে ভোট দিছি দল দেইক্যা, অহন ভোট দিমু মানুষ দেইক্য। যে বালা, কোন দুর্নীতি করে নাই, হেই রহম মানুষরে ভোট দিমু।
আমি: নাকি ভোটের আগের রাতে লুঙ্গি গামছা পেয়ে আবার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলবেন!
-না না ভাই, এইবার আর আগের মতন বুল করমুনা ইনশাল্লাহ, দোয়া করবেন।
আরও পড়ুন <<>> ‘বাটপার না জনতার বন্ধু’ কোনটি হবেন- সিদ্ধান্ত রাজনীতিবিদদের
প্রিয় পাঠক, ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন এটি হাজারো মানুষের মধ্যে একটি বর্তমান অবস্থার সত্য খন্ড চিত্র। প্রতিদিন কোন না কোন জায়গায় এরকম আলোচনা হচ্ছে কারো না কারো সাথে।
আসলেই তাই, রাষ্ট্র যিনি পরিচালনা করবেন, সরকারি শীর্ষ ব্যক্তি যদি সৎ হন, তার যদি জাতির প্রতি ত্যাগ থাকে, তিনি যদি নির্লোভ হন, জাতিকে যদি সত্যিই কিছু দিতে চান, জাতির কল্যাণ কামনা করেন, তাহলে তো তাকে মানুষ গদিতে চাইতেই পারে। সেরকম মূল্যবোধের ধারণা সম্পন্ন মানুষের ভাবনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এখানে সেখানে। এমন অবস্থা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য একটি ভালো লক্ষণ।
এভাবে তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যদি জনমানুষের ভাবনা একই রকম হয়, তাহলে এ জাতি নিশ্চয়ই ভালো কিছু করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। যদিও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কিছু মানুষ ভিন্ন মত পোষণ করবে, সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তাতে কোন ক্ষতি নেই। সর্বেপরি বাংলাদেশে আগামী দিনগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতার মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটবে এমনটি আশা করা বোধহয় অত্তুক্তি হবে না।
যার ব্যক্তিগত কোনও অভিলাস নেই, যিনি শুধু চান সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। ঐক্যবদ্ধ জাতি, উন্নত জাতিতে রূপান্তরিত হবে এমন স্বপ্ন যিনি দেখেন এবং দেখান, তেমন একজন ব্যক্তিই রাষ্ট্র ক্ষমতা বা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবেন, যাকে আমাদের দেশের জনসাধারণ মনের মনিকোঠায় ঠাই দিবেন। এমনই একজনকে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে চায় বাংলাদেশ।
লেখক:
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।