Header Advertisement

Sobar Desh | সবার দেশ যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:৪৪, ২৮ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ০৫:৪৫, ২৮ মার্চ ২০২৫

বাবার লাশ উঠানে রেখে সম্পত্তি ভাগাভাগি সন্তানদের

বাবার লাশ উঠানে রেখে সম্পত্তি ভাগাভাগি সন্তানদের
ছবি: সংগৃহীত

যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা গ্রামে এক অবাক করা ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৯ সন্তান তাদের বাবা হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের (৭২) লাশ ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানে রেখে সম্পত্তি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিলো। 

সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা লাশ দাফন করতে দেয়নি। মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পর ১৬ ঘণ্টা পর, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মেম্বার ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে তার লাশ দাফন করা হয়।

২৬ মার্চ (বুধবার) ভোর ৬টার দিকে হাবিবুর রহমান বিশ্বাস বার্ধক্যজনিত রোগে মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও, তার সন্তানরা সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের ছোট স্ত্রী ও তার ছেলে সোহেল বিশ্বাসের সঙ্গে ৮৩ শতাংশ জমির বিরোধ ছিলো, যা তিনি মৃত্যুর আগে তার ছোট স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছিলেন। এ বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সালিসে একাধিকবার আলোচনা হলেও, সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন তিনি।

মৃত্যুর পর, তার সন্তান আতাউর রহমান, সুমন, আনোয়ার ও হাফিজুর এসে বাবার মরদেহ দাফন করতে বাধা দেন। তাদের দাবি ছিলো, জমির বিরোধ মীমাংসিত না হওয়া পর্যন্ত দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না। এ পরিস্থিতিতে সালিসের মাধ্যমে জমির বিরোধ মীমাংসিত করতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মেম্বার এবং গ্রামবাসী তাদের হস্তক্ষেপ করেন।

এসময় লাশ খাটিয়ায় রেখে উঠানের একপাশে সালিস শুরু হয়, যেখানে স্থানীয়রা এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত, মৃত ব্যক্তির ছোট ছেলে সোহেল বিশ্বাস ৮৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৫০ শতাংশ তার সৎ ভাইদের নামে লিখে দেয়ার শর্তে মুচলেকা দেন। এরপর, রাতে প্রায় ১০টা নাগাদ বাবার লাশ দাফন করা হয়।

এমন ঘটনা দেখে গ্রামবাসী হতবাক হয়ে যায় এবং অনেকেই বিষয়টি অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেন। স্থানীয় ইউপি মেম্বার কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ সালিসের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে এবং রাত ১০টার পর লাশ দাফন করা হয়েছে।

চলিশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি জানার পর আমি আমার প্রতিনিধি, মেম্বার এবং এলাকাবাসীকে ডেকে সালিসের মাধ্যমে পারিবারিক সমস্যার সমাধান করেছি।

সবার দেশ/কেএম