গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণে তথ্য-উপাত্ত মিলেছে
হাসিনার পার পাওয়ার সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর
গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহু প্রমাণ ও উপাত্ত রয়েছে। কখনও সরাসরি, কখনও টেলিফোনের মাধ্যমে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়ার প্রমাণও রয়েছে।

জুলাই-আগস্ট মাসের গণহত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিকবার অপরাধ প্রমাণে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেয়া এক বিবৃতিতে প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, আমরা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। তবে খসড়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহু প্রমাণ ও উপাত্ত রয়েছে। কখনও সরাসরি, কখনও টেলিফোনের মাধ্যমে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়ার প্রমাণও রয়েছে। আইনগতভাবে, এ গণহত্যার সর্বোচ্চ দায় শেখ হাসিনার ওপর বর্তায়, যা সুপেরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির আওতায় পড়ে।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আরও জানান, খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন স্বাক্ষ্য ও দলিল থেকে উঠে এসেছে যে, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালিয়েছে, নিরপরাধ মানুষ হত্যার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এর আগে, গত ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের চেষ্টা এবং গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
প্রসিকিউশন টিমের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হবে এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর বাংলাদেশে পরিস্থিতির দিকে রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন এ নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকর হতে পারে, যা বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সবার দেশ/কেএম