নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
লাঙ্গলবন্দে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্নানোৎসব

নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী পুণ্যস্নান। শুক্রবার রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো পূণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করে পাপমোচন এবং পূণ্যলাভের আশায় লাঙ্গলবন্দে সমবেত হবেন।
নিরাপত্তায় নজিরবিহীন ব্যবস্থা
এবারের স্নানোৎসবকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, স্নানোৎসব নির্বিঘ্ন করতে আমরা অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রথমবারের মতো এবার ড্রোন নজরদারি চালানো হবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ ম্যাপও টানিয়ে দেয়া হবে।
জানা গেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৪৪২ জন পুলিশ সদস্য, ৪৭১ জন আনসার, নৌ-পুলিশের ৬৪ জন, কোস্টগার্ড ও হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ দল, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭টি ওয়াচ টাওয়ার, ৭০টির বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় নিজে তিনবার লাঙ্গলবন্দে এসে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। মেজর আফসানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৫০ জন সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
বিদেশি পূণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
এবারের স্নানোৎসবে বিদেশি পূণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ননী গোপাল সাহা বলেন, এতো বড় নিরাপত্তাব্যবস্থা আগে কখনও দেখিনি। জেলা প্রশাসক মহোদয় তিন কিলোমিটার এলাকা নিজে হেঁটে হেঁটে প্রতিটি ঘাট পরিদর্শন করেছেন।
স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা
পূণ্যার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ৭টি মেডিকেল ক্যাম্প ও ১০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি সেবা সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্নান ও ধর্মীয় আচার
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব মহাষ্টমী পূণ্যস্নান। মন্ত্র পাঠ করে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্রপল্লব হাতে নিয়ে পূণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করবেন।
লগ্ন শুরুর পরপরই তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পূণ্যার্থীদের ঢল নামবে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দল স্নান উৎসবকে সফল করতে দিনরাত কাজ করছে।
এবার ২০টি ঘাটে পূণ্যার্থীরা স্নান করবেন, যাতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারেন।
সংক্ষেপে উৎসব ও ব্যবস্থাপনা:
- স্নান শুরু: ৪ এপ্রিল রাত ২টা থেকে ৫ এপ্রিল রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত
- নিরাপত্তা: সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ ২০০০+ নিরাপত্তাকর্মী
- বিশেষ নিরাপত্তা: ৭টি ওয়াচ টাওয়ার, ৭০টি সিসি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি
- স্বাস্থ্যসেবা: ৭টি মেডিকেল ক্যাম্প, ১০টি অ্যাম্বুলেন্স
- বিদেশি পূণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
এবারের স্নানোৎসব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নজির সৃষ্টি করতে চলেছে।
সবার দেশ/কেএম